• বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

শিক্ষাঙ্গনে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা ও পুলিশি নিপীড়ন অব্যাহত

শিক্ষাঙ্গনে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা ও পুলিশি নিপীড়ন অব্যাহত

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তি জামাত-শিবিরকে প্রশাসনিকভাবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জায়গা করে দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই কায়দায় মবের রাজত্ব কায়েম রয়েছে। গত ৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে তাকে রাতভর মারধর করে ভোর রাতে পুলিশে সোপর্দ করে শিবির-এনসিপিপন্থি শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবি করলে তিনিও মববাজদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন এবং পুলিশ ইমিকে গ্রেফতার করে (গত ২৮ এপ্রিল তার জামিন হয়েছে)।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী আজ নীরব ভূমিকায় থেকে মব-বাজ নব্য ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয়-আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। জনগণকে পতিত ও নব্য উভয় ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা করতে হবে।   ভিন্ন মত-পথের জনগণের উপর ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের তান্ডব :

গত ১০ এপ্রিল’২৬, রাত আটটার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানকালে কয়েকজন নাগরিকের উপর আক্রমণ করে “আজাদী আন্দোলন” নামের ব্যানারে একদল ব্যক্তি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমকামী আখ্যা দিয়ে ধর্মের নামে মব তৈরি করে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করে। শাহবাগ থানার সামনেই এমন ঘটনা ঘটে। ভিন্নমত ও পথের জনগণের ওপর শারীরিক আঘাত-হেনস্থা স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদী একটি কর্মকাণ্ড, যা জনগণের মাঝে ধর্মের নামে বিভাজন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

বিরাজনীতিকরণ: নব ফ্যাসিবাদের কর্মসূচি

সম্প্রতি তিতুমীর কলেজ ও ইডেন কলেজে “রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন” কর্মসূচি নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা দেখা গেছে। বাহ্যত এটা নির্বিরোধী সাধারণ ছাত্রদের (যারা আওয়ামী-বিএনপি-শিবিরের বুর্জোয়া ছাত্র-রাজনীতিতে বিরক্ত) আন্দোলন মনে হলেও এর পেছনে শক্তিশালী ‘গুপ্ত’ রাজনীতি রয়েছে, যার মূল হোতা হলো জামাত। বর্তমানে জামাতের বি-টিম এনসিপিও এতে মদদ দিচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। ইডেনে যে ছাত্রীরা বিএনপির ব্যানার পুড়িয়ে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছে তাদের পোষাক (বোরখা, হিজাব– ইত্যাদি) সেদিকেই ইঙ্গিত করে। আশুভাবে এটা বিএনপি-কে লক্ষ্য করে হলেও এর উদ্দেশ্য সূদুরপ্রসারী।

বিএনপি ছাত্র-তরুণ-জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী কোনো শক্তি নয়। কিন্তু তার অজুহাতে বিরাজনীতিকরণ হলো অধিকতর ফ্যাসিস্ট এক রাজনীতি। কারণ, গণবিরোধী রাজনীতিকে শুধু প্রগতিশীল রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করা যায়, রাজনীতি-শূন্যতা দিয়ে নয়।

বিরাজনীতিকরণের এ নব্য ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল বামপন্থি শক্তিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাঙ্গনে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা ও পুলিশি নিপীড়ন অব্যাহত

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বৃহঃস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের সময়কালে ধর্মবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তি জামাত-শিবিরকে প্রশাসনিকভাবে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জায়গা করে দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এখন তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই কায়দায় মবের রাজত্ব কায়েম রয়েছে। গত ৭ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলে তাকে রাতভর মারধর করে ভোর রাতে পুলিশে সোপর্দ করে শিবির-এনসিপিপন্থি শিক্ষার্থীরা। এর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ ইমি শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবি করলে তিনিও মববাজদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন এবং পুলিশ ইমিকে গ্রেফতার করে (গত ২৮ এপ্রিল তার জামিন হয়েছে)।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী আজ নীরব ভূমিকায় থেকে মব-বাজ নব্য ফ্যাসিবাদকে প্রশ্রয়-আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। জনগণকে পতিত ও নব্য উভয় ফ্যাসিবাদের বিরোধিতা করতে হবে।   ভিন্ন মত-পথের জনগণের উপর ধর্মবাদী ফ্যাসিবাদের তান্ডব :

গত ১০ এপ্রিল’২৬, রাত আটটার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানকালে কয়েকজন নাগরিকের উপর আক্রমণ করে “আজাদী আন্দোলন” নামের ব্যানারে একদল ব্যক্তি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সমকামী আখ্যা দিয়ে ধর্মের নামে মব তৈরি করে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা করে। শাহবাগ থানার সামনেই এমন ঘটনা ঘটে। ভিন্নমত ও পথের জনগণের ওপর শারীরিক আঘাত-হেনস্থা স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদী একটি কর্মকাণ্ড, যা জনগণের মাঝে ধর্মের নামে বিভাজন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

বিরাজনীতিকরণ: নব ফ্যাসিবাদের কর্মসূচি

সম্প্রতি তিতুমীর কলেজ ও ইডেন কলেজে “রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন” কর্মসূচি নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদী তৎপরতা দেখা গেছে। বাহ্যত এটা নির্বিরোধী সাধারণ ছাত্রদের (যারা আওয়ামী-বিএনপি-শিবিরের বুর্জোয়া ছাত্র-রাজনীতিতে বিরক্ত) আন্দোলন মনে হলেও এর পেছনে শক্তিশালী ‘গুপ্ত’ রাজনীতি রয়েছে, যার মূল হোতা হলো জামাত। বর্তমানে জামাতের বি-টিম এনসিপিও এতে মদদ দিচ্ছে বলে ধারণা করা যায়। ইডেনে যে ছাত্রীরা বিএনপির ব্যানার পুড়িয়ে মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছে তাদের পোষাক (বোরখা, হিজাব– ইত্যাদি) সেদিকেই ইঙ্গিত করে। আশুভাবে এটা বিএনপি-কে লক্ষ্য করে হলেও এর উদ্দেশ্য সূদুরপ্রসারী।

বিএনপি ছাত্র-তরুণ-জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী কোনো শক্তি নয়। কিন্তু তার অজুহাতে বিরাজনীতিকরণ হলো অধিকতর ফ্যাসিস্ট এক রাজনীতি। কারণ, গণবিরোধী রাজনীতিকে শুধু প্রগতিশীল রাজনীতি দিয়েই মোকাবিলা করা যায়, রাজনীতি-শূন্যতা দিয়ে নয়।

বিরাজনীতিকরণের এ নব্য ফ্যাসিবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে প্রগতিশীল বামপন্থি শক্তিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র